যাকে তুমি গরিব ভাবছ, আল্লাহর কাছে সে-ই হয়তো সবচেয়ে সম্মানিত
গরিবকে ছোট করো না—আল্লাহ দেখেন তোমার হৃদয়
মানুষের চোখে একজন মানুষ হয়তো গরিব, অসহায় কিংবা সাধারণ। কিন্তু আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা কতটা—তা নির্ধারণ হয় তার পোশাক, সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে নয়; বরং তার ঈমান, তাকওয়া ও আমল দিয়ে।
আমাদের সমাজে কখনো কখনো এমন মানুষও দেখা যায়, যারা অর্থ-সম্পদ ও সামাজিক অবস্থানকে মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলেন। ধনী মানুষকে কাছে টেনে নেওয়া হয়, আর দরিদ্র মানুষকে অনেক সময় নীরবে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ ইসলাম আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন শিক্ষা দেয়।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।”
—সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৩
অর্থাৎ একজন মানুষের আসল সম্মান তার সম্পদে নয়, তার তাকওয়ায়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের অবহেলা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, মানুষের বাহ্যিক অবস্থা দেখে তার মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবিদের সঙ্গে বসে ছিলেন। এমন সময় একজন দরিদ্র মুসলিম সেখানে উপস্থিত হলেন। তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ ছিল সাধারণ। পৃথিবীর চোখে হয়তো তাঁর তেমন কোনো মূল্য ছিল না। কিন্তু আল্লাহর রাসুল ﷺ-এর কাছে তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত মানুষ।
এটাই ইসলামের সৌন্দর্য—এখানে মানুষের মর্যাদা টাকা-পয়সা দিয়ে মাপা হয় না।
আজ আমরা অনেক সময় কাউকে দাওয়াত দেওয়ার আগে চিন্তা করি—সে কতটা ধনী? তার সামাজিক পরিচয় কী? সে আমাদের অনুষ্ঠানে এলে আমাদের সম্মান বাড়বে কি না?
কিন্তু একজন ক্ষুধার্ত মানুষ যখন আপনার দরজায় আসে, তখন হয়তো তার কাছে দামি পোশাক নেই, বড় পরিচয় নেই, অর্থ নেই। তার কাছে শুধু একটি ক্ষুধার্ত হৃদয় আছে।
আপনি তাকে ভালোভাবে বসতে দিলেন, নিজের খাবার থেকে একটু ভাগ করে দিলেন, ভালোভাবে কথা বললেন—হয়তো আপনার কাছে এটি খুব ছোট একটি কাজ।
কিন্তু সেই ছোট কাজটিই আল্লাহর কাছে অনেক বড় হয়ে যেতে পারে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে নেককার মানুষের একটি গুণ বর্ণনা করে বলেছেন—
“আর তারা আল্লাহর ভালোবাসায় মিসকিন, ইয়াতিম ও বন্দীকে খাবার দান করে।”
—সূরা আল-ইনসান, ৭৬:৮
তারা বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা চায় না। তারা চায় আল্লাহর সন্তুষ্টি।
একজন গরিব মানুষকে কখনো ছোট করে দেখবেন না
আপনি জানেন না—যে মানুষটিকে আপনি আজ অবহেলা করছেন, হয়তো সে রাতের অন্ধকারে আপনার জন্য দোয়া করবে।
আপনি জানেন না—যে মানুষটির পোশাক আপনার চেয়ে সাধারণ, হয়তো আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা আপনার চেয়েও বেশি।
আপনি জানেন না—যার হাতে আজ টাকা নেই, হয়তো তার অন্তরে এমন ঈমান আছে যা আপনাকে জান্নাতের পথে এগিয়ে দিতে পারে।
তাই কাউকে তার দারিদ্র্যের কারণে ছোট করবেন না।
কাউকে তার পোশাক দিয়ে বিচার করবেন না।
কাউকে তার বাড়ি, গাড়ি কিংবা সম্পদ দিয়ে মূল্যায়ন করবেন না।
কারণ মানুষের চোখ শুধু বাহ্যিক দৃশ্য দেখে; আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন।
শেষ কথা
জীবন খুব ছোট।
আজ যার অনেক টাকা, কাল সে হয়তো অসহায় হয়ে যেতে পারে। আজ যে দরিদ্র, আগামীকাল আল্লাহ তাকে স্বচ্ছল করে দিতে পারেন।
তাই মানুষকে সম্মান করুন।
ক্ষুধার্তকে খাবার দিন।
অসহায়কে সাহায্য করুন।
গরিব আত্মীয়কে নিজের মানুষ মনে করুন।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কাউকে তার দারিদ্র্যের কারণে নিজের চেয়ে ছোট মনে করবেন না।
কারণ শেষ বিচারে আমাদের সম্পদ, পোশাক কিংবা সামাজিক মর্যাদা নয়—আমাদের ঈমান, আমল ও তাকওয়াই হবে আসল পরিচয়।
হয়তো আপনি একজন দরিদ্র মানুষকে সামান্য কিছু খাবার দিলেন, কিন্তু সেই খাবারের বিনিময়ে আল্লাহ আপনার জন্য এমন রহমতের দরজা খুলে দিলেন, যার কথা আপনি কল্পনাও করেননি।
মানুষকে ছোট করবেন না।
কারণ আপনি জানেন না—আল্লাহর কাছে কে কত বড়।

No comments
আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।